আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকার পশ্চিম পাশে উঠান মাঝি ঘাট এলাকায় এক শ্রেণীর অসাধু মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রভাবশালীর নির্দেশে সাগরতীরে চরের বালু নির্বিচারে করছে লোপাট করছে ট্রাকে করে। চরের সে বালু দিয়ে চলছে জমি ও মৎস্য আড়ত ভরাটের কাজ। এতে  সৌন্দর্য চরের নষ্ট হওয়া ছাড়াও ঝুঁকির মুখেও পড়ছে পরিবেশও।এছাড়াও অপরিকল্পিত বালু তোলার ফলে ভাঙনের হুমকিতে পড়তে পারে পাশের বেড়িবাঁধও। নদীভাঙন থেকে রক্ষায় সরকারের কয়েকশত কোটি টাকার চলমান প্রকল্পটিও ভেস্তে যেতে পারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকালে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকার পশ্চিম পাশে উঠান মাঝি ঘাট এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দশ থেকে পনের জন লোক একের পর এক বালু ভর্তি করছে ট্রাকে। এরপর ট্রাক গুলো বালু নিয়ে যাচ্ছে সাগরে তীরে নির্মিত বেড়িবাঁেধর পাশে মৎস্য আড়তে। বালু ভর্তি একটি ট্রাককে লোকালয়ে ঢুকতেও দেখা গিয়েছে। বালু ভর্তি কাজে নিয়োজিত লোকজনের সাথে কথা বললে তারা জানায়, চরের বালু গুলো তারা মৎস্য আড়ত নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত করছে। কিছু বালু বাড়ির কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের নির্দেশে ট্রাকে করে বালু ভর্তি করছেন বলেও জানান। যার ফলে চরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ঝুঁকির মুখেও পড়ছে উপকূলী কয়েক হাজার মানুষও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে স্থানীয় বিভিন্ন ছোট-বড় যানবাহনও চলাচল করে বালুর চর দিয়ে। এসব অসাধু ব্যক্তিরা চর থেকে বালু তোলার ফলে সৃষ্টি হয় গর্ত। জোয়ারের পানিতে হয়ে যায় কাদা মাটির গর্ত। আর এসব গর্তে বিভিন্ন সময় আটকে যায় বিভিন্ন গাড়িও। কিছুদিন আগে একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সও চরের বালুতে আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় সে অ্যাম্বুলেন্সকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, যাঁরা বালু তোলেন তাঁদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ কথা বলার সাহস পায় না। কে কথা বলবে এসব প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে? প্রশাসনও সব দেখে না দেখার ভাণ করছে। দিনে বা রাতে ট্রাকে করে চর থেকে নিয়ে যাচ্ছে বালু। আর এসব বালু দিয়ে কেউ বা ভরাট করছে তাদের বাড়ির আশপাশের সড়ক। কেউবা ভরাট করছে মৎস্য আড়ত।

স্থানীয় রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, চর থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি জেনেছি। সেজন্য গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) দিয়ে রাতে বা দিনে চলে পাহারাও। আমাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ট্রাকে করে বালু নিয়ে যাচ্ছে। এদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, চর থেকে যারা বালু উত্তোলন করে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

SHARE