‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের এক সময়ের ঐহিত্যবাহী হাট ছিলো এটি’। সপ্তাহে দুই দিন বসে হাট, এখানে দূর-দূরান্ত  থেকে আসতো মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় করতে। কৃষকরা ঝুড়ি ভরে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি ও ফলমূল হাটে বিক্রি করার জন্যও নিয়ে আসত কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ফাজিলখার হাটে। এমন চিত্র আর দেখা মিলে না। শত বছরের হাটে লাগেনি কোনোদিন উন্নয়নের ছোঁয়া, কাদা পানি ও ময়লা আর্বজনার পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এ হাটটি। যেন দেখার কেউ নেই।

ঐতিহ্যবাহী এ হাটের সিংহভাগ সরকারি জমি এলাকার প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। হাটের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করারও আহবান জানান স্থানীয়রা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেই পুরনো সেই রূপ। ক্রমেই ছোট হয়ে গেছে হাট বসার জায়গা। বিভিন্ন ছোট  ছোট আগাছায় ভরে গেছে চারপাশ। মাটির তৈরি দোকানগুলোর টিনের চালে জং ধরে ভেঙে পড়ছে। নেই কোনো ক্রেতাদের হাটার ব্যবস্থাও। কাদা পানিতে সয়লাব হয়েছে পুরো হাটের জায়গা জুড়ে। কোমলমতি ছেলেরা করছে খেলাধুলাও। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এ হাটকে হস্থান্তর করে নেওয়া হয়েছে মহা সড়কের পাশে। সেখানেও রয়েছে কাদা পানি ও ময়লা আর্বজনার ভরপুর। ক্রেতা বিক্রেতাদের চলাচলের নেই কোনো ব্যবস্থা।

এ হাটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, এখানে হাট বসলে নিরাপদে বাজার করতে পারতো এলাকার মেয়েসহ নানান বয়সের মানুষ। করোনা পরিস্থিতির কারণে হাটটি মহা সড়কের পাশে নিয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক মানুষ বাজার করতে যায় না এখানে। অনেক সময় রাস্তা পাড় হতে গিয়ে শিকার হয়েছে দুঘটনারও। স্থানীয় বাসিন্দা শংকর দাশ বলেন, আমাদের বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে দেখছি এ হাটে বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষকে আসতে। প্রতিবছর অনেকজনই ইজারা নেন এ হাটের। কিন্তু সরকার বা ইজারাদাদের কোনোদিন দেখিনাই কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার করতে।

প্রায় ১শত বছর ধরে এখানেই কামারের দোকান করছেন বিবৃত্তি দাশ (৭০) কামারের পূর্ব পুরুষরা। সে ছোট্ট কাল থেকে দেখে আসছেন এ হাটকে। তিনি জানান, কালের বিবর্তনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় এখন প্রায় প্রাণহীন এ হাট। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের মুখে শোনা যায় ঐতিহ্যবাহী এ গ্রাম্য হাটের গল্প। প্রবীণ ব্যক্তিরা  যেন শত বছরের পুরনো হাটের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছেন এখনও। কাঙ্খিত উন্নয়ন না হওয়ায় বিলুপ্তির পথে এ হাটটি এখন।

স্থানীয় বড়উঠান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান খান বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ অপেক্ষা করত সপ্তাহে দুই দিন বসা এ হাটের জন্য। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাট ছিল ফাজিলখার হাট। বর্তমান সময়ের মতো ঘন ঘন হাট-বাজার না থাকায় মানুষ অনেকটা নির্ভরশীল ছিল এ হাটের ওপর। পূর্বপাশ দিয়ে বসত গরুর হাট। হরেক রকমের বাহারি পণ্যসামগ্রী কিনতে মানুষ ভিড় করত এখানে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর পাশাপাশি যাবতীয় জিনিসপত্রসহ সব পাওয়া যেত হাটে। দীর্ঘ ৪০ বছরের মধ্যে কোন উন্নয়ন বা সংস্কার না হওয়ায় তা এখন বিলুপ্তির পথে। হাটের আশপাশের জমিসহ অনেক জমিও দখল করে ফেলেছেন অনেকেই।

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, এ উপজেলার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হাট এটি। হাট সংস্কার ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা বলেন, আমি সবে মাত্র এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। এ হাটের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, হাটের আশপাশের সরকারি খাস জমি দখলে আছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শীঘ্রই উচ্ছেদ অভিযানও পরিচালনা করা হবে।

 

 

SHARE